,

 



সংবাদ শিরোনাম:
«» মুক্তিযোদ্ধাদের হাতে ছাত্রলীগ নেতার ভালোবাসার ফুল | টাইমস অব চট্টগ্রাম «» চট্টগ্রাম জেলা পরিষদের উদ্যোগে বাঁশখালীতে শীতবস্ত্র বিতরণ||টাইমস অব চট্টগ্রাম «» জননেতা সাদেক চৌধুরী ছিলেন উচ্চ চিন্তার রাজনীতিবীদ–এম এ সালাম ||টাইমস অব চট্টগ্রাম «» হযরত ছিদ্দিক-এ আকবর (রদ্বি.) আল কোরআন একাডেমীর ৩য় প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপন «» দিনাজপুরে “উৎসাহ সামাজিক সংগঠন” এর কম্বল বিতরণ | টাইমস অব চট্টগ্রাম «» বাঁশখালী বাণীগ্রামস্হ ‘বন্ধন ক্লাব’ এর কার্যনির্বাহী পরিষদ কমিটি গঠিত | টাইমস অব চট্টগ্রাম «» সুবিধা বঞ্চিত শীতার্ত পরিবারের পাশে বাঁশখালী ব্লাড ব্যাংক | টাইমস অব চট্টগ্রাম «» মহাপুরুষগণ জাতি ও সমাজকল্যাণে কাজ করে গেছেন–এম এ সালাম ||টাইমস অব চট্টগ্রাম «» আসুন সকলে মিলে দুস্থ শীতার্তদের পাশে দাাঁড়াই –এম এ সালাম||টাইমস অব চট্টগ্রাম «» মহানগর গোয়েন্দা (বন্দর) অভিযানে সাত চোর চক্রের সদস্য গ্রেফতার | টাইমস অব চট্টগ্রাম

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পত্রিকা পড়ার গল্প|| টাইমস অব চট্টগ্রাম

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ

ভোরে ঘুম থেকে উঠে একে একে সকলে জড়ো হতাম মায়ের শোবার ঘরে। হাতে চায়ের পেয়ালা, বিছানার ওপর ছড়ানো-ছিটানো খবরের কাগজ … একজনের পর আরেকজন, এক-একটা খবর পড়ছে আর অন্যেরা মন দিয়ে শুনছে বা মতামত দিচ্ছে। কখনও কখনও তর্কও চলছে- কাগজে কী লিখল বা কী বার্তা দিতে চাচ্ছে? যার যার চিন্তা থেকে মতামত দিয়ে যাচ্ছে। এমনিভাবে জমে উঠছে সকালের চায়ের আসর আর খবরের কাগজ পড়া।
আমাদের দিনটা এভাবেই শুরু হতো। অন্তত ঘণ্টাতিনেক এভাবেই চলত। আব্বা প্রস্তুত হয়ে যেতেন। আমরাও স্কুলের জন্য তৈরি হতাম। আব্বার অফিস এক মিনিটও এদিক-সেদিক হওয়ার জো নেই। সময়ানুবর্তিতা তাঁর কাছ থেকেই আমরা পেয়েছি।

সংবাদপত্র পড়া ও বিভিন্ন মতামত দেওয়া দেখে আব্বা একদিন বললেন- ‘বলো তো, কে কোন খবরটা বেশি মন দিয়ে পড়ো?’
আমরা খুব হকচকিয়ে গেলাম। কেউ কোনো কথা বলতে পারি না। আমি, কামাল, জামাল, রেহানা, খোকা কাকা, জেনী- সকলেই সেখানে। এমনকি ছোট্ট রাসেলও আমাদের সঙ্গে। তবে সে পড়ে না, কাগজ কেড়ে নেওয়ার জন্য ব্যস্ত থাকে।

আমরা কিছু বলতে পারছি না দেখে আব্বা নিজেই বলে দিলেন- কে কোন খবরটা নিয়ে আমরা বেশি আগ্রহী। আমরা তো হতবাক। আব্বা এত খেয়াল করেন! মা সংবাদপত্রের ভেতরের ছোট ছোট খবর, বিশেষ করে সামাজিক বিষয়গুলো বেশি পড়তেন। কোথায় কী ঘটনা ঘটছে তা-ও দেখতেন। কামাল স্পোর্টসের খবর বেশি দেখত। জামালও মোটামুটি তাই। আমি সাহিত্যের পাতা আর সিনেমার সংবাদ নিয়ে ব্যস্ত হতাম। এভাবে একেকজনের একেক দিকে আগ্রহ।

খুব ছোটবেলা থেকেই কাগজের প্রতি রেহানার একটা আলাদা আকর্ষণ ছিল। আব্বা ওকে কোলে নিয়ে বারান্দায় চা খেতেন আর কাগজ পড়তেন। কাগজ দেখলেই রেহানা তা নিয়ে টানাটানি শুরু করত- নিজেই পড়বে, এমনটা তার ভাব ছিল। এর পর ধানমন্ডির বাড়িতে যখন আমরা চলে আসি, তখন আমাদের সঙ্গে সঙ্গে ওরও কাগজ পড়া শুরু হয়। যখন একটু বড় হলো, তখন তো তার খুঁটিয়ে খুঁটিয়ে খবর পড়ার অভ্যাস হলো। ওর দৃষ্টি থেকে কোনো খবরই এড়াত না; তা সিনেমার খবর হোক বা অন্য কিছু। ছোটদের পাতায় অনেক গল্প, কবিতা, কুইজ থাকত। রেহানা সেগুলো খুব মনোযোগ দিয়ে পড়ত।

এখন রেহানা লন্ডনে থাকে। সেখানে সে অনলাইনে নিয়মিত দেশের পত্রপত্রিকা পড়ে। শুধু যে পড়ে, তাই না; কোথাও কোনো মানুষের দুঃখ-কষ্টের খবর দেখতে পেলে সঙ্গে সঙ্গে আমাকে মেসেজ পাঠায়- অমুককে সাহায্য কর, এখানে কেন এ ঘটনা ঘটল, ব্যবস্থা নাও…। উদাহরণ দিচ্ছি। এই তো করোনাভাইরাসের মহামারির সময়েরই ঘটনা। একজন ভিক্ষুক ভিক্ষা করে টাকা জমিয়েছিলেন ঘর বানাবেন বলে। করোনাভাইরাসের মহামারি শুরু হওয়ায় ওই ভিক্ষুক তার সব জমানো টাকা দান করে দেন করোনাভাইরাস রোগীদের চিকিৎসার জন্য। খবরের কাগজে এই মহানুভবতার খবর রেহানার মনকে দারুণভাবে নাড়া দেয়। আমাকে সঙ্গে সঙ্গে সে বিষয়টা জানায়। আমরা তাঁর জন্য ঘর তৈরি করে দিয়েছি। এভাবে এ পর্যন্ত অনেক মানুষের পাশে দাঁড়াতে পেরেছি শুধু আমার ছোট্ট বোনটির উদার মানবিক গুণাবলির জন্য; ওর খবরের কাগজ পড়ার অভ্যাসের কারণে। সুদূর প্রবাসে থেকেও প্রতিনিয়ত সে দেশের মানুষের কথা ভাবে। পত্রিকার পাতা থেকে খবর সংগ্রহ করে মানুষের সেবা করে।

দুই.
আমার ও কামালের ছোটবেলা কেটেছে টুঙ্গিপাড়ায়, গ্রামের বাড়িতে। সেকালে ঢাকা থেকে টুঙ্গিপাড়ায় যেতে সময় লাগত দুই রাত একদিন। অর্থাৎ সন্ধ্যার স্টিমারে চড়লে পরের দিন স্টিমারে কাটাতে হতো। এরপর শেষ রাতে স্টিমার পাটগাতি স্টেশনে থামত। সেখান থেকে নৌকায় দুই-আড়াই ঘণ্টার নদীপথ পেরিয়ে টুঙ্গিপাড়া গ্রামে পৌঁছানো যেত। কাজেই সেখানে কাগজ পৌঁছাত অনিয়মিতভাবে। তখন কাগজ বা পত্রিকা পড়া কাকে বলে, তা শিখতে পারিনি। তবে একখানা কাগজ আসত আমাদের বাড়িতে। তা পড়ায় বড়দের যে প্রচণ্ড আগ্রহ, তা দেখতাম।
ঢাকায় আমরা আসি ১৯৫৪ সালে। তখন রাজনৈতিক অনেক চড়াই-উতরাই চলছে। আব্বাকে তো আমরা পেতামই না। তিনি প্রাদেশিক পরিষদের সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন। আবার মন্ত্রিত্বও পেলেন। তিনি এত ব্যস্ত থাকতেন যে গভীর রাতে ফিরতেন। আমরা তখন ঘুমিয়ে পড়তাম। সকালে উঠে আমি আর কামাল স্কুলে চলে যেতাম। মাঝেমধ্যে যখন দুপুরে খেতে আসতেন, তখন আব্বার দেখা পেতাম। ওই সময়টুকুই আমাদের কাছে ভীষণ মূল্যবান ছিল। আব্বার আদর-ভালোবাসা অল্প সময়ের জন্য পেলেও আমাদের জন্য ছিল তা অনেক পাওয়া।

বাংলার মানুষের জন্য তিনি নিজের জীবনকে উৎসর্গ করেছিলেন। তাঁর জীবনের সবটুকু সময়ই যেন বাংলার দুঃখী মানুষের জন্য নিবেদিত ছিল।
এর পরই কারাগারে বন্দি তিনি। বাইরে থাকলে মানুষের ভিড়ে আমরা খুব কমই আব্বাকে কাছে পেতাম। কারাগারে যখন বন্দি থাকতেন তখন ১৫ দিনে মাত্র এক ঘণ্টার জন্য দেখা পেতাম। এই তো ছিল আমাদের জীবন!

আমার মা আমাদের সব দুঃখ ভুলিয়ে দিতেন তাঁর স্নেহ-ভালোবাসা দিয়ে। আমার দাদা-দাদি ও চাচা শেখ আবু নাসের- আমাদের সব আবদার তাঁরা মেটাতেন, যা প্রয়োজন তিনিই এনে দিতেন। আব্বার ফুফাতো ভাই খোকা কাকা সব সময় আমাদের সঙ্গে থাকতেন। আমাদের স্কুলে নেওয়া, আব্বার বিরুদ্ধে পাকিস্তান সরকার যে মামলা দিত তার জন্য আইনজীবীদের বাড়ি যাওয়া- সবই মার সঙ্গে থেকে খোকা কাকা সহযোগিতা করতেন।
আমার মা পড়ালেখা করতে পছন্দ করতেন। আমার দাদা বাড়িতে নানা ধরনের পত্রিকা রাখতেন। আব্বার লেখা ‘অসমাপ্ত আত্মজীবনী’তে দাদার পত্রিকা কেনা ও পড়ার কথা উল্লেখ আছে। তখন থেকেই আব্বার পত্রিকা পড়ার অভ্যাস। আমরা তাঁর কাছ থেকেই পত্রিকা পড়তে শিখেছি।

পত্রিকার সঙ্গে আব্বার একটা আত্মিক যোগসূত্র ছিল। আব্বা যখন কলকাতায় পড়ালেখা করছিলেন, তখনই একটা পত্রিকা প্রকাশের সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিলেন। জনাব হাশিম এ পত্রিকার তত্ত্বাবধান করতেন এবং তফাজ্জল হোসেন মানিক মিয়া সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করতেন। পত্রিকাটির প্রচারের কাজে আব্বা যুক্ত ছিলেন। ‘মিল্লাত’ ও ‘ইত্তেহাদ’ নামে দুটি পত্রিকাও প্রকাশিত হয়েছিল। সেগুলোর সঙ্গেও আব্বা জড়িত ছিলেন। ১৯৫৭ সালে ‘নতুন দিন’ নামে আরেকটি পত্রিকার সঙ্গে আব্বা সম্পৃক্ত হন। কবি লুৎফর রহমান জুলফিকার ছিলেন এর সম্পাদক।

পাকিস্তান সৃষ্টির পর হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দীর আর্থিক সহায়তায় ‘ইত্ত

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *